1. admin@dailyindependentdialogue.com : admin :
তালেবানের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সমস্যা - Daily Independent Dialogue
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
বড় আমখোলা যুব উন্নয়ন ক্লাবের উদ্যোগে অান্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উদযাপন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মুহাম্মাদ (সা.)-এর আদর্শ মোনালিসা মুন্নি ছোট পর্দায় প্রতিষ্ঠিত অভিনয় শিল্পী হিসাবে নিজেকে পরিচিত করতে চান। তালতলীর ২৪টি যুব ক্লাবের সদস্যদের সাথে আরডিএফ এর সম্বয়ন সভা অনুষ্ঠিত তালতলী তে ৭ দফা দাবিতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিন হাজারের অধিক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি মুজিবের মেয়ে’ র শুভারম্ভ মহিলা সমিতির মঞ্চে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, যুবক কারাগারে বাংলাদেশে রাস্তায় আসছে ইলেকট্রিক গাড়ি তালতলীতে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক, অতঃপর ধর্ষণ মামলা তালতলীতে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু।

তালেবানের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সমস্যা

মর্তুজা হাসান সৈকত
  • Update Time : বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৮ Time View

২০ বছর পর আফগানিস্তানে আবার তালেবানের ক্ষমতা দখল দৃষ্টি কেড়েছে বিশ্ববাসীর। সেই সঙ্গে বেড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটানোর মার্কিন সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর অনেকটা অবিশ্বাস্য গতিতে যে তালেবান গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন হলো, তাদের অতীত অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তারা ১৯৯৬-২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় যে শাসনব্যবস্থা চালু করেছিল, তাতে জনগণের অংশগ্রহণের কোন পথ ছিল না। নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারগুলোও ছিল অনুপস্থিত। নারীদের মৌলিক অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছিল, সবরকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নিষিদ্ধ করা হয়। এর পাশাপাশি সীমিত করা হয় শিক্ষাব্যবস্থাকে। কেবলমাত্র ধর্মভিত্তিক শিক্ষাকেই শিক্ষার মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। তদুপরি, ইসলামের একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যাকে তারা চ‚ড়ান্ত বলে চাপিয়ে দেয়। ইসলামি চিন্তায়ও যে বিভিন্নতা আছে, বহুমাত্রিকতা আছে- সেটাকেও তারা ওইসময়ে অস্বীকার করে। মূল কথা হচ্ছে, অতীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে তারা যে চরম সহিংসতা দেখিয়েছে, বিশ্বজনমত তা আজও ভোলেনি।

আফগানিস্তান দেশটি ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগ স্থানে। তাই সেখানে কী ঘটছে না ঘটছে, সে বিষয়ে আমাদের যেমন ব্যাপক কৌত‚হল রয়েছে, তেমনই রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। বিশেষ করে বাংলাদেশের জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তালেবান ও জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্কের বিষয়টি বহুল আলোচিত। দেশে জঙ্গীবাদের যে তৎপরতা ছিল বা এখনও সুপ্তাবস্থায় রয়েছে, এর সূচনা হয়েছিল আফগানযোদ্ধাদের মাধ্যমে। এর ফলে, আফগানিস্তানের শাসনক্ষমতা পুনরায় যখন তালেবানের হাতে গেছে, তখন সামনের দিনগুলোতে কী অপেক্ষা করছে- সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। কারণ, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে বলা যায়, আফগানিস্তান পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় সহিংস উগ্রবাদের নতুন কেন্দ্র্র্র হয়ে উঠতে পারে। এর আগে ১৯৯৬ সালে তালেবান যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখনই বিশ্ব তাদের শাসনের সহিংস বিভৎস রূপ দেখেছিল। সেদেশে কোন বিচারব্যবস্থা ছিল না। সে সময়ে দেশটিতে ভিন্নমত ও ভিন্ন ধর্মও চরমভাবে আক্রান্ত হয়েছিল।

অন্যদিকে, আফগান ফেরত ও তালেবান মতাদর্শে উদ্বুদ্ধরা ওইসময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও একটা সর্বনাশা প্রভাব ফেলে। সেটা যে কতটা ভয়ঙ্কর সেটার তিক্ত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশেরও রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে পাকিস্তান আর আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশে এই তালেবানপন্থী জঙ্গীদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রবেশ ঘটে। হরকাতুল জিহাদ জেএমবিসহ জঙ্গীনেতাদের আফগান যোগের বিষয়টি মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পায়। দেশে ফিরেই তারা রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালায়। তখন তাদের সেøাগান ছিল ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান।’ একটা সময় বাংলাদেশেও তারা তালেবান শাসন কায়েমের রঙিন স্বপ্ন দেখেছে। কথায় কথায় মুক্তবুদ্ধির লোকদের গলা কেটেছে। বর্তমান সরকারের বড় একটা সময় এই জঙ্গীদের সামলাতেই কেটেছে।

একটা সময় বাংলাদেশ থেকে জঙ্গী মতাদর্শীদের আফগানিস্তানে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের উত্থানের পর গন্তব্য ঘুরে হয়ে যায় সিরিয়া-ইরাক। কিন্তু আইএসের পতনের কয়েক বছর পর তালেবানের পুনরুত্থানে আগের চিত্রই ফিরে আসার খবর মিলছে। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে তালেবানের শাসন উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমরা এরই মধ্যে খবরে দেখেছি যে, বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু তরুণ আফগানিস্তানে গেছে। আবার পুলিশের তৎপরতার কারণে আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনার পর্যায়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছে, এমনও নজির রয়েছে। কাজেই নতুন করে যোগাযোগের যে ক্ষেত্র স্থাপন হচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার। বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে যাওয়ার এই খবর উদ্বেগজনক। এই সংবাদের পাশাপাশি তালেবানের আগের শাসনামলের জঙ্গীবাদকে হিসেবে রাখলে বলা যায়, এবারও নতুন করে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় হুমকি তৈরি হতে পারে।

যেহেতু বাংলাদেশের জঙ্গী পরিস্থিতির সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানের সরাসরি যুক্ততা ও প্রভাব রয়েছে, ফলে বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তা থেকেই যায়। এ কারণেই কাবুলে তালেবানের ক্ষমতা দখলের বিষয়টিকে উদ্বেগ ও শঙ্কার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন করে ক্ষমতা দখল একটি গোষ্ঠীকে আবার নতুন করে উজ্জীবিত করতে পারে জঙ্গীবাদে। মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের নিয়ে এমনিতেই সঙ্কটে রয়েছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানও নতুন সঙ্কট তৈরি করতে পারে। এর কারণ হচ্ছে যেসব রোহিঙ্গা তরুণ ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছে, তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই কট্টর মতবাদে বিশ্বাসী অনেকেই আছেন। তালেবানের বিজয় তারা কীভাবে দেখছে, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্যাম্পগুলোয় সরকারের নিয়ন্ত্রণও খুব শিথিল।

বিশ বছর পর তালেবানের এই উত্থানের পেছনে মোটাদাগে সহযোগিতা করেছে দুটি বড় দেশ- চীন ও রাশিয়া এবং পেছনে থেকে কলকাঠি নেড়েছে পাকিস্তান। আফগানিস্তানের এই দ্রæত পট পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুফল সম্ভবত এই দেশটিই ঘরে তুলবে। দেশটি আগাগোড়াই তালেবানের পাশে আছে। তারা যদি এভাবে পাশে না থাকত, তাহলে তালেবানরা এই অবিশ্বাস্য ঝড়ের গতিতে সামরিকভাবে অগ্রসর হতে পারত কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মূলত, পাকিস্তান থেকে প্রাপ্ত অর্থ ও অস্ত্রের জোরেই তালেবানরা দ্রæত শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছিল। যে যাই বলুক আসল কথা হচ্ছে, এখনও তালেবান জঙ্গীদের শক্তির প্রধান উৎস পাকিস্তান।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় অভিযোগ হচ্ছে, দেশটি আফগানিস্তানের তালেবান ও তাদের মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে পাকিস্তানে ‘নিভৃত আবাস’ গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছিল। সরকারী নীতি যাই হোক, তালেবানদের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর যোগাযোগ বরাবরই ছিল এবং আছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর আল কায়েদার আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী তালেবান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সরকার সামরিক অভিযান পরিচালনা করলেও দেখা গেল বহু বছর পর বিন লাদেন লুকিয়ে ছিল পাকিস্তানের একটি সামরিক আবাসিক এলাকায়। অন্যদিকে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভেতরের একটি অংশ জঙ্গীদের হয়ে কাজ করছে বলেই সামরিক এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস। বিশেষ করে বিন লাদেন পাকিস্তানের একটি সামরিক আবাসিক এলাকাতে বছরের পর বছর নিরাপদে বসবাস করার পর সেই বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয়েছে। অন্যদিকে, তালেবানদেরও অবাধ যাতায়াত রয়েছে পাকিস্তানে।

আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের এই সখ্য কাশ্মীরে একটি প্রভাব ফেলতে পারে। সশস্ত্র কর্মকাণ্ড বেড়ে যেতে পারে সেখানে। অনেকের মতে, তালেবান এবং পাকিস্তান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো আবার কাশ্মীরে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। আফগান-সোভিয়েত যুদ্ধে সোভিয়েতের পরাজয়ের পরপরই জম্মু-কাশ্মীরে ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী মুজাহিদীনদের যেভাবে কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছিল, ঠিক একইভাবে এখন তালেবান জঙ্গীদেরও ব্যবহার করতে পারে। ভারত অবশ্য তালেবানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। তবে তাদের এ উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে, সেটা এক বড় প্রশ্ন।

  1. আফগানিস্তানের ক্ষমতা ফের তালেবানের দখলে নেয়া কেবল উপমহাদেশের জন্যই নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও পর্যবেক্ষণের বিষয়। দেশের প্রায় সব নিরাপত্তা বিশ্লেষকই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ উদ্বেগ যুক্তিসঙ্গত। সারা বিশ্বের জঙ্গীরা তালেবানের এই জয়কে নিজেদের জয় হিসেবে দেখে উজ্জীবিত হওয়ার চেষ্টা করবে। বাংলাদেশও এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। তবে বিগত বছরগুলোতে আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, তালেবানের শাসনের একটা সর্বনাশা প্রভাব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পড়তে পারে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোন উগ্রবাদী গোষ্ঠী যেন পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে, সে ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি একটা শক্তিশালী নিরাপত্তা কৌশলও বিনির্মাণ করতে হবে অবশ্যই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Dailyindependentdialouge
Theme Customized BY WooHostBD